ইসলামি সাম্রাজ্যের অন্যতম সর্ববৃহৎ ও ঐতিহাসিক দু'টি অভিযান লঞ্চ করা হয়েছিল মেয়েদের সম্মান রক্ষার্থে।
দোর্দণ্ডপ্রতাপ ঊমাইয়া খিলাফতের নর্দার্ন আফ্রিকা মহাদেশীয় আর্মির কমাণ্ডার, ফিল্ড মার্শাল মুসা বিন নুসাইরের স্পেন অভিযান। যার ফলে আজকের স্পেন ৮০০ বছরের জন্য মুসলিম খিলাফতের অধীনে চলে আসে।
আরেকটি হলো ঊমাইয়া খিলাফতের অত্যাচারী বলে পরিচিতি পাওয়া গভর্নর হাজ্জাজ বিন ইঊসুফ কর্তৃক ফিল্ড মার্শাল মুহাম্মাদ বিন কাসিমকে দিয়ে ভারতের দিকে পরিচালনা করা অভিযান। যার ফলে আমাদের উপমহাদেশে ইসলামের আগমন হয়।
একটি অভিযানের পেছনে অন্যতম কারণ ছিলেন কাঊন্টেস ফ্লোরিণ্ডা। যাকে স্পেনের রাজপ্রাসাদে সম্রাট ধর্ষণের শিকারে পরিণত করেছিল। যার ফলে তাঁর পিতা আফ্রিকার ঈগলের সন্ধানে মুসা বিন নুসাইরের কাছে ছুটে গিয়েছিলেন।
আরেকটি অভিযানের পেছনে স্রেফ একজন মুসলিম নারীর আর্তনাদ ছিল। যার উত্তর দিয়েছিলেন হাজ্জাজ বিন ইঊসুফ "আমি হাজির আছি!" বলে।
আরেকটি অভিযান, আব্বাসি সাম্রাজ্যের খলিফা মু'তাসিম আরম্ভ করেছিলেন ঠিক অনুরূপভাবে। তবে, এবারের অভিযান ছিল সম্পূর্ণ প্রতিশোধমূলক। নিজেদের অভিযানে দখলকৃত শহরে মুসলিম নারীদের ধর্ষণ করেছিল রোমান সেনাবাহিনী। সুতরাং, খলিফা সংবাদ পাওয়ার পর স্বয়ং নিজ বাহিনীর সাথে বেরিয়ে রোম সাম্রাজ্যের শহর আমূরিয়ার ওপর ঝাপিয়ে পড়েন। খলিফার উপস্থিতিতে তাঁর আদেশে রোমান সাম্রাজ্যের সবচেয়ে শক্তিশালী ঘাঁটির মাঝে অন্যতম বলে বিবেচিত হওয়া আমূরিয়ার পতন নিশ্চিত করা হয়। যেখানে তারপর টানা ০৫ দিন যাবত শহর লুট করে মুসলিম সেনাবাহিনী। শহরের মাঝে ফেলে ৭০,০০০ রোমান সৈনিককে হত্যা করা হয়। শহরের বেঁচে যাওয়া অবশিষ্ট বাসিন্দাদের ক্রীতদাস হিসাবে উঠিয়ে নিয়ে যায় খিলাফতের বাহিনী। প্রতিশোধের চূড়ান্ত নিদর্শন স্থাপন করতে শহর ছেড়ে যাওয়ার পূর্বে খলিফার আদেশে মুসলিম সেনারা সমগ্র শহরে আগুন ধরিয়ে শহরের স্রেফ দেওয়াল ব্যতিত সমস্ত কিছু মাটিতে মিশিয়ে দেয়।
শহর হতে বেরিয়ে যাওয়ার পর ফিরে আসার পথে ক্রীতদাসদের মাঝে ৬,০০০ বিশিষ্ট জনকে আলাদা করে বিদ্রোহ ও পলায়নের ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে হত্যা করে ফেলা হয়। মুসলিম বাহিনীর তুলনাহীন হিংস্রতায় আতংকিত সম্রাট থিওফিলোস এরপর পূর্বেকার কর্মকাণ্ডের জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করে লেখা চিঠি ও উপহার সমেত দূত খলিফার নিকট প্রেরণ করে। খলিফা সেগুলো প্রত্যাখ্যান করলে তারপর সম্রাটের দূত আরেকটি হুমকিমূলক চিঠি খলিফাকে হস্তান্তর করে। রাগান্বিত খলিফার আদেশে তখন ৪২ জন বিশিষ্ট বন্দি, যাদের অনেকের মুক্তির আবেদন নিয়ে দূতের আগমন হয়েছিল, ওদের সকলকে হত্যা করে দেওয়া হয়।
মুসলিমদের পূর্বসূরীরা নারীদের সম্মানকে এমনভাবে দেখতেন। সুতরাং, আপনারা দয়া করে নিজেদের সামাল দিন।
ধন্যবাদ।
© Revan M
Comments
Total Comments: 0
No comments yet.
Leave a Comment
Login to leave a comment.